Sunday, ডিসেম্বর ১০, ২০২৩
শিরোনাম
ডলি সায়ন্তনীকে নির্বাচনে চান পাবনার সংস্কৃতিকর্মীরাওনার্স পরিচয় দেন ডাক্তার, দিচ্ছেন সর্ব রোগের চিকিৎসাডলি সায়ন্তনীর প্রার্থীতা ফেরার অপেক্ষায় সুজানগর, আমিনপুরের মানুষঅবহেলা অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর পাবনার সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, বিপাকে কৃষকসাঁথিয়ায় ভোটার হালনাগাদকারীদের পাওনা দিতে গরিমসি করছেন নির্বাচন অফিসারআটঘরিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামী আটকসাঁথিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে মন্দির নির্মাণ করার চেষ্টা ॥ জনমনে অসন্তোষসাঁথিয়ায় চলাচলের রাস্তায় বেড়া,অবরুদ্ধ ১৬ পরিবারআটঘরিয়ায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনবেড়ায় পাট ক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

দোহাই সবার আরেকটু ঘরে থাকুন : বাংলাদেশ এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে!

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

গোলাম মাহবুব, নিজস্ব প্রতিবেদক :

অনেক সুন্দর করে একটি নৌকা বানালাম। অনেক সুন্দরভাবে তা সাজালাম। যদি নৌকায় একটি ছোট ছিদ্র থাকে তাহলে সেই নৌকা পানি ভর্তি হয়ে ডুবে সবাইকে মরতে বেশি সময় লাগবে না। আসল কথায় আসা যাক। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৯ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭ জনে। এদের মধ্যে আরও চারজন মারা গেছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। দেশে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ৮ মার্চ, এখনও ১ মাস হতে দুইদিন বাকি। এই বিষয়ে আসুন আমরা একটু বিশ্বের দিকে চোখ বুলিয়ে নিই-

যুক্তরাষ্ট্র :
প্রথম শনাক্ত ১ জানুয়ারি – ১ জন
১ ফেব্রুয়ারি – ৭ জন শনাক্ত
১ মার্চ – ৭৪ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল ৩১১৬৫৬ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮৪৫৪ জন

ইতালি :
প্রথম শনাক্ত ৩১ জানুয়ারি – ২ জন
২৯ ফেব্রুয়ারি – ১১০০ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ১০৫৮০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল -১২৪৬৩২ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৫৩৬২ জন

স্পেন :
প্রথম শনাক্ত ১ ফেব্রুয়ারি – ১ জন
১ মার্চ – ৮৪ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ৯৬০০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল- ১৩০৭৫৯ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২,৪১৮ জন

যুক্তরাজ্য :
প্রথম শনাক্ত ৩১ জানুয়ারি – ২ জন
১ মার্চ – ৩৬ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ২৫৫০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল ৪৭৮০৬ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৯৩২ জন

জার্মানি :
প্রথম শনাক্ত ২৭ জানুয়ারি – ১ জন
২৭ ফেব্রয়ারি – ৪৬ জন শনাক্ত
২৭ মার্চ – ৫১০০০ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ৭১৮০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল ৯৭০৭৪ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৪৭৮ জন

ফ্রান্স :
প্রথম শনাক্ত ২৪ জানুয়ারি – ২ জন
২৪ ফেব্রুয়ারি – ১২ জন শনাক্ত
২৪ মার্চ – ২২৬০০ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ৫২৮০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল- ৮৯৯৫৩ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৫৬০ জন

ভারত :
প্রথম শনাক্ত ৩০ জানুয়ারি – ১ জন
২৯ ফেব্রুয়ারী – ৩ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ১৪০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল – ৩৫৮৮ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৯৯ জন

পাকিস্তান :
প্রথম শনাক্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি – ২ জন
২৬ মার্চ – ১২০০ জন শনাক্ত
৩১ মার্চ – ১৯০০ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল- ২৮৯৯ জন শনাক্ত
৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫ জন

৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৭৪৩৩৬ জন এবং মোট মৃতের সংখ্যা ৬৯৪৮০ জন
(তথ্য সূত্র : জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি )

বিশ্বের দেশে দেশে করোনা শনাক্তের সময় থেকে ২ মাসের মাথায় এসে প্রতিটি দেশে মহামারিতে রূপ নিয়েছে। আমাদের দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের সময় থেকে আজ ২৮ তম দিন চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ১৮ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছে ২ জন করোনা রোগী। অথচ আক্রান্তের ২৩তম দিনে বাংলাদেশে ৬১ জন রোগী আক্রান্ত হয় এবং ৬ জন রোগী মারা যায়। অবস্থা দৃষ্টে সহজে অনুমান করা যায়- বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বিশ্বের করোনা কবলিত অন্যান্য দেশের মতো মহামারিতে রূপ নিতে যাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসসহ সব ধরণের অফিস বন্ধ রাখাই সমীচীন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অফিসের কর্মচারী-শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করে আরও এক মাসের ছুটি দিয়ে বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা না গেলে ঘনবসতি এই দেশের পরিণতি হবে চরম ভয়াবহ। তাই এখনই ঢাকার সাথে অন্য জেলার যোগাযোগ পুরোপুরিভাবে বন্ধ (রোগি ছাড়া) করে দিতে হবে। জনগণকে হোম কোয়ারেন্টাইন পালন শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কে.জে.বি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নিশিথ কুমার বিশ্বাস বলেন, “সরকারের উর্ধ্বতন মহলের কর্মকর্তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যদি দেশ কোন খারাপ অবস্থার মধ্যে যায় তার দায়ভার কে নেবে? ক্ষতি যা হওয়ার সাধারণ জনগনেরই হবে।”

পাবনার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, অন্যান্য দেশের আক্রান্ত ও মৃতের পরিসংখ্যান সকলেই যদি একটু পর্যালোচনা করে দেখতো, আর নিজের জীবন-পরিবারকে ভালোবাসতো, তবে নিশ্চই বাড়ির বাইরে বের হতো না। (আল্লাহ না করুক) আগামী ১ মাসের মধ্যে আমাদের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যে কত হবে- তা আমরাই অনুমান করতে পারছি না।

কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, আমাদের অবস্থা এখন এমন যে- আমাদের যদি বেহেস্তেও রাখা হয়, তবুও আমরা মাঝে মাঝে দোযখের ভয়াবহতা দেখার জন্য বাইরে বের হব-এটা আমাদের নৈতিক চরিত্র। আমরা যদি না জাগি, তো কেমনে সকাল হবে?

এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অবস্থা যে ভবিষ্যতে কী হবে তা হয়তো অনেকেরই বোধগম্য নয়। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে বাড়িতে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এক মাস আলুভর্তা দিয়েও ভাত খাওয়া যায়। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে জনসমাগম কমাতে যার যার জায়গা থেকে যদি সচেতন না হতে পারি, তবে আমাদের মুক্তির পথ খুঁজে দেবে কে?

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর