Tuesday, ডিসেম্বর ১২, ২০২৩
শিরোনাম
ডলি সায়ন্তনীকে নির্বাচনে চান পাবনার সংস্কৃতিকর্মীরাওনার্স পরিচয় দেন ডাক্তার, দিচ্ছেন সর্ব রোগের চিকিৎসাডলি সায়ন্তনীর প্রার্থীতা ফেরার অপেক্ষায় সুজানগর, আমিনপুরের মানুষঅবহেলা অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর পাবনার সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, বিপাকে কৃষকসাঁথিয়ায় ভোটার হালনাগাদকারীদের পাওনা দিতে গরিমসি করছেন নির্বাচন অফিসারআটঘরিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামী আটকসাঁথিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে মন্দির নির্মাণ করার চেষ্টা ॥ জনমনে অসন্তোষসাঁথিয়ায় চলাচলের রাস্তায় বেড়া,অবরুদ্ধ ১৬ পরিবারআটঘরিয়ায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনবেড়ায় পাট ক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

খাল খনন বদলে দিয়েছে সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষিচিত্র

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খানঃ  পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ি গ্রামের বেহুলার বিল। নিষ্কাশন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সারাবছরই পানিতে ডুবে থাকতো বিলের প্রায় ৪৫০ হেক্টর কৃষিজমি। এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দূর্ভোগে রাউতি, ধূলাউড়ি, চৌবাড়িয়া, ভুলবাড়িয়াসহ ৮ গ্রামের প্রায় চার হাজার কৃষকদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি, নিষ্কাশন খাল পুণঃখননে নেমে গেছে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিলের পানি। চলতি মৌসুমেই জমিতে ফসল রোপণের আশা করছেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা। পুণঃখনন করা হয়েছে উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের বান্নেগাড়া খালও। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধ থাকতো খাল পাড়ের ৬ গ্রামের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। জমিতে আটকে থাকছে না বর্ষার পানি। পাট কেটে খালের পানিতে জাগ দিচ্ছেন চাষিরা। এসব খাল খননে বদলে গেছে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষিচিত্র। চাষাবাদের আওতায় এসেছে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি সহস্রাধিক হেক্টর কৃষিজমি। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধায় চলতি মৌসুমেই সুফল পাবেন চাষিরা, বলছে কৃষিবিভাগ। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ফলে বেহুলা ও বান্নেগাড়া বিলের জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুনসহ রবিশস্য রোপন করতে পারবেন চাষিরা। লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই। জ¦ালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।
এ ব্যপারে পাইকশা গ্রামের চাষী ইলাহী মুন্সী বলেন, আমাদের শত শত বিঘা জমি আমরা চাষ করতে পারতাম না। পানি ও কচুরিপানায় ঢেকে থাকতো। দুই এক বিঘা চাষ করতে পারলেও খরা মৌসুমে সেচ দিতে ব্যয় বেড়ে যেতো। কিন্তু এই খাল খননের ফলে যেমন জমি থেকে জলাবদ্ধতা দূর হইছে, তেমনই খরার মৌসুমে সেচ নিয়েও দুশ্চিন্তা কমেছে।
আরেক চাষী জানিক মেখ বলেন, এই খাল খননে আমরা খুব উপকৃত হইছি। বছরের অধিক সময় জলে ডুবে থাকা জমিগুলোও আমরা চাষ করতে পারবো। কালাইচারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, খাল খননে ফসল আনা-নেওয়াতে সুবিধা হইছে। এখন আমরা খুব সহজে নৌকা নিয়ে সবকিছু আনা-নেওয়া করতে পারছি। তাছাড়া অনেক জমি পানি বেধে থাকায় চাষ করতে পারতাম না। জমিতে পানি থাকতো। এখন সে অসুবিধা নাই। খালে পানি নেমে যাচ্ছে। চাষ করতে পারবো।
কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, ভূ উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন পাবনা- নাটোর- সিরাজগঞ্জ (পানাসি) প্রকল্পের আওতায় সাঁথিয়ায় প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল খনন করেছে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা।
পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন (পানাসি) প্রকল্প পরিচালক এ.বি.এম মাহমুদ হাসান খান জানান, সাঁথিয়া উপজেলার বেহুলা ও বন্নেগাড়া বিলের যে দুটি খাল পুন:খনন হয়েছে। উক্ত খাল দুটি পুন:খননের ফলে প্রায় ১৫শ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা দুরীকরণ হবে এবং ৬শ হেক্টর জমিতে এক ফসলী থেকে দুই-তিন ফসলে পরিণত হবে। তিনি আরো জানান, লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর