Tuesday, মে ২১, ২০২৪

বাদাম নিয়ে বিপাকে বেড়ার চাষিরা

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খাঁন, স্টাফ রিপোর্টারঃ পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের শত শত বিঘা বাদাম খেত তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে বাদাম চাষিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তলিয়ে যাওয়া বাদাম তোলার চেষ্টা করছেন। আবার কোনো কোনো স্থানে চাষিরা তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে আধা-পাকা বাদামও তুলে ফেলছেন। এতে সব মিলিয়ে বাদাম চাষে মারাত্মক লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, বেড়ার চরাঞ্চলে প্রতিবছর প্রচুর বাদামের আবাদ হয়ে থাকে। এবার উপজেলায় ১৩শ ৬০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়েছে। আর দিন দশেকের মধ্যেই বাদাম কৃষকদের ঘরে ওঠার কথা। আবাদ করা বেশির ভাগ জমির বাদাম এখনও পুরোপুুরি পুষ্ট না হয়ে আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষকেরা জানান, ফ্রেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে প্রায় একমাস ধরে কৃষকেরা চরের বালুমিশ্রিত জমিতে বাদাম আবাদ করে থাকেন। আর সেই বাদাম জমি থেকে তোলা শুরু হয় জুন-জুলাই মাসে। সাধারণত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব বাদাম কৃষকের ঘরে উঠে যায়। ভেজা বাদাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২শত টাকা আর শুকনা বাদাম ৪ হাজার থেকে ৪হাজার ২শ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানায় কৃষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে যমুনার পানি দ্রুত বাড়ছে। আর এরই ফলে চরাঞ্চলের বাদামের খেত তলিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কৃষকেরা জমি থেকে বাদাম তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই উঠতি বাদাম তলিয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ঠিক এই সময়েই আবার শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক স্থানেই চাষিরা পরিবারের নারী ও শিশুসহ সব সদস্যদের নিয়ে ডুবে যাওয়া বাদাম তুলছেন। কিন্তু এভাবে তোলা বাদাম ফলন কম হবে।  এর ওপর বেশির ভাগ ডুবে যাওয়া জমি থেকে বাদাম তোলা সম্ভবও হচ্ছে না। কোনো কোনো স্থানে আবার ডুবে যাওয়ার ভয়ে শুকনো জমি থেকেও আধাপাকা বাদাম তোলা হচ্ছে।

সোমবার উপজেলার রূপপুর, ঢালারচর, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর বাদামের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব জমি থেকে কৃষক পরিবারের নারী, শিশুসহ সব সদস্য মিলে বাদাম তুলে নৌকায় করে পাড়ে নিয়ে বাদাম ছাড়াচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও তাঁরা জমির পাড়ে শুকনা স্থানে বাদামগাছ থেকে বাদাম ছাড়াচ্ছেন।

রূপপুর ইউনিয়নের ঘোপসেলন্দা গ্রামের বাদামচাষি আলী আকবর জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলেন। আর এক সপ্তাহের মধ্যে সব বাদাম পুরোপুরি পুষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু যমুনার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাঁর দুই বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। বাকি জমিও তলিয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে। তিনি জানান, তলিয়ে যাওয়া কিছু জমি থেকে তিনি বাদাম তুললেও তাতে এক চতুর্থাংশ বাদামও মিলবে না। তাঁর জমির আশেপাশে ৬০ থেকে ৭০ বিঘা বাদাম খেত তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

রুপপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর ঠান্টু শেখ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর বাদাম খেত তলিয়ে গেছে। তবে উপজেলার অন্যান্য চরের চেয়ে কাজিরহাট এলাকা নিচু হওয়ায় এখানকার বাদামচাষীদের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবির বলেন, যমুনায় পানি বাড়ায় ১৪০ হেক্টর জমির বাদাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বাদাম পুরোপুরি পুষ্ট না হওয়ায় ফলনও কম হয়েছে।  শিগগিরই তলিয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর