Monday, মে ২০, ২০২৪
শিরোনাম

সাগরের আমেজ বেড়া হুরাসাগরপারের পোর্টে

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খান, ঃ বর্ষায় হুরাসাগর নদ ফুলে-ফেঁপে অনেকটা সাগরের আমেজ সৃষ্টি করে। পাবনার বেড়া পৌর এলাকার পোর্ট নামক স্থানে হুরাসাগরপারে দাঁড়ালে যে কারোরই মন আনন্দে ভরে ওঠে। এই আনন্দ আরও বেড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নদের বুকে ঘুরে বেড়ানোয়। তাই পুরো বর্ষা জুড়েই ওই স্থানটিতে ভিড় লেগে থাকে ভ্রমণপিপাসুদের। আর ঈদ, পূজাসহ কোনো উৎসব এলে তো কথাই নেই। হুরাসাগরপারের গোটা পোর্ট এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের ভিড়ে। এবারের ঈদুল আজহাতে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় আগের সব রেকর্ড যেন ছাপিয়ে গেছে। তাছাড়াও সরকারি ছুটি ও শুক্রবার ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মত।


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও এলাকাবাসী জানায়, বেড়া নৌবন্দর পুনরুজ্জীবিত প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে পাউবো বেড়া পৌর এলাকার ডাকবাংলোর পাশে বিশাল নৌঘাট নির্মাণ করে। হুরাসাগরপারে জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন নৌ-ঘাটটি লম্বায় ২৭৫ মিটার। এর দুই পাশ ১০০ মিটার করে নদের দিকে বাড়ানো। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গোটা অংশটি সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে বাঁধানো। নানা জটিলতার মুখে এক পর্যায়ে পাউবো নৌবন্দর পুনরুজ্জীবিত প্রকল্পটি বাতিল করে। এর ফলে বাঁধানো ঘাটের অংশটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই ভাবেই পড়ে থাকে। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এক পর্যায়ে ওই এলাকাটি মানুষের কাছে ভ্রমণের আদর্শ জায়গা হিসেবে গড়ে ওঠে। সবার কাছে জায়গাটির নাম পোর্ট বলে পরিচিতি পায়।
শুধু বেড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার মানুষ এমনকি পাবনা ও সিরাজগঞ্জ শহরের মানুষও প্রতিদিন পোর্টে বেড়াতে আসেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষের ভিড় এবার ব্যাপক বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল নিয়ে পোর্টে বেড়াতে এসেছেন। পোর্ট এলাকায় বাঁধের সড়কের ওপর মেলার মতো পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে নাগরদোলা, চরকি, নৌকা দেলনা, বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু করে খাবারের অসংখ্য দোকান বসেছে। বাঁধানো ঘাট জুড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। বেড়াতে আসা লোকজন সেগুলো ঘন্টা হিসাবে চুক্তি করে হুরাসাগর নদের আশে-পাশে বেড়াতে যাচ্ছেন। আবার কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পিকনিকে আসতে দেখা যায় তাতে রয়েছে ডিজে সাউন্ড বক্স। গানের তালে তালে নাচছে অনেকেই।
চলতি মাসের ২৫ জুলাই পাবনা নিউজ ডট নেট এ ছবিসহ ‘‘বেড়ার একমাত্র বিনোদনকেন্দ্রে জঞ্জাল, বিড়ম্বনায় দর্শনার্থীরা’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর বেড়া পোর্ট এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় কাজ করছে ‘‘বেড়া শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন” নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি জেলা উপজেলার অসহায় শিক্ষার্থীদের সহযোগীতার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজ করে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছেন।
একটি নৌকার মাঝি মোজাম আলী বলেন, ‘এমনিতে আমরা প্রতি ঘন্টার জন্য দেড় থেকে দুই শ টাকা নেই। কিন্তু ঈদের জন্য কিছুটা বেশি নিচ্ছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লোকজন হুরাসাগরের উল্টোপারে গ্রামের ভেতরে নৌকায় বেড়াতে যায়। কেউ কেউ আবার নদের উজানে বা ভাটির দিকেও যায়।’
সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই জায়গাটি (পোর্ট) ছাড়া আশেপাশে ভালো বেড়ানোর তেমন জায়গা নেই। এখানে কক্সবাজার বা কুয়াকাটা সৈকতের আমেজ পাই। তাই ছুটি পেলে এখানে প্রায়ই বেড়াতে আসি।’
বেড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, ‘পোর্ট এলাকাটি অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমরা তো এখানে বেড়াতে আসিই, বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এলে তাঁদেরকেও এ স্থানটি দেখানোর জন্য আনা হয়।’

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর