Monday, মে ২০, ২০২৪
শিরোনাম

বেড়ার সেই বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গাফিলতিতে বেতনবঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারী

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের সেই আলোচিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কলেজের প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী গত জুলাই মাসের বেতনবঞ্চিত হয়েছেন। সময়মত বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
জানা যায়, সম্প্রতি অনলাইন নিউজপোর্টাল, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের আলোচিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম বিশ্বাস নিজের দায়িত্বহীনতাকে আড়াল করতে সভাপতির উপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করে কলেজে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অমান্য করে গভর্নিং বডিকে ভুল বুঝিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করাসহ প্রায় ৫ বছর ধরে ভারতে বসবাসকারী শিক্ষক বিশ্বনাথ দত্তের বেতনভাতা চালু রাখার বিষয়টি মিডিয়ার নজরে আসলে গত ৩-৪ দিন ধরে এ বিষয়ে ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সরেজমিন প্রতিবেদন প্রচার হয়। যা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. সবুর আলী ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়েই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নানাভাবে ব্যস্ততা দেখিয়ে বেতনশীট সময়মত ব্যাংকে জমা না দেয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা জুলাই মাসের বেতনের অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের এমপিও’র অর্থ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ব্যাংকে জমা হয়। কলেজ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনশীট ব্যাংকে জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল গত ৮ আগস্ট। অথচ, আজ ১১ আগস্টেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের শীট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যাংকে জমা দেননি।
শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগে জানান, বেতন পাওয়ার পরেই আমরা বাড়াভাড়া, সন্তান-সন্ততির স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধ করি। সাধারণত ১০ তারিখের মধ্যেই আমরা সকল ধার-দেনা-বকেয়া পরিশোধ করে দেই। কিন্তু চলতি মাসে আমরা যারা বাড়ি ভাড়া থাকি, তাদের সমস্যা হয়ে গেলাে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, অত্র কলেজ ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত হওয়ার পরে এই প্রথম শিক্ষকরা সময়মত বেতনবঞ্চিত হলেন। এটা রীতিমতো মানবাধিকার লংঘন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
গত ১০ আগস্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে বেতন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি বেতন বিলে স্বাক্ষর না করলে আমার কী করার আছে?
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম বিশ্বাসের কাছে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে তিনি বলেন, আপনি কলেজে আসেন এই বলে ফোনটা কেটে দেন।

গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল আজিজ খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর