Tuesday, মে ২১, ২০২৪

এসিল্যান্ড মনিরুজ্জামান পাল্টে দিয়েছেন সাঁথিয়া ভূমি অফিসের দৃশ্যপট ও সেবা

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খাঁনঃ ভূমি অফিসের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন সাঁথিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুজ্জামান। এখন অফিসে নাইহয়রানি, নাই দালালি, নেই দৌরাত্ম। দ্রুততার সাথে মিলছে সেবা। শুধু তাই নয় অফিসটির বাহ্যিক পরিবেশও এখন আকর্ষনীয়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালে ২৫ জুলাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামান সাঁথিয়া উপজেলায় যোগদানকরেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই ভূমি উন্নয়ন কর (রাজস্ব) আদায়ের পাশাপাশি মাত্র অল্প সময়ের মধ্য বিপুল সংখ্যকনামজারি নিষ্পত্তি করে গত এক বছরে ধরে জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। একটা সময় ছিল নিজের জমি নামজারি (খারিজ) করতে সময় লেগে যেত মাস থেকে এক বছর। সেই খারিজ সম্পর্ণ করতে এখন সময় লাগছে সর্বোচ্চ ২৫ দিন। যেটি সরকারেরবেধে দেওয়া সময়ের চাইতে কম সময় সম্পুর্ণ হচ্ছে।

ভূমি অফিসে আসা জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে,আগে দালালদের পিছনে ঘুরে ঘুরে জমির নামজারি বা অন্যান্যকাজ করতে হতো। তাদের মনে ছিল ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ জানানোর মত জায়গা ছিল না। কিন্তু সব নেতিবাচক ধারণাপাল্টে দিয়াছেন সহকারী কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান। তিনি তার মেধা কর্ম দক্ষতা দিয়ে খোলস পাল্টে দিয়েছেনঅফিসটির।

ভূমি অফিসের চতুরদিকে ছায়াঢাকা পরিবেশ। ভেতরের পরিবেশটিকে মাঞ্জনীয় করা হয়েছে। করা হয়েছে ফুলেৱ বাগান, গাড়িরাখার জায়গায় শাক সবজি আবাদ, জমাজমির নানা কাজ করার জায়গা বা আপেক্ষার জন্য গোল ঘরটিকে টাইলস দ্বারাআবৃত করা হয়েছে। ভূমি অফিসের ভিতরের ডিজাইনের কাজটিও সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া সেবা প্রত্যাশী জনসাধারণের জন্যঅফিসের ফুটপাতের অংশটুকুও আকর্ষণীয় করতে টাইলস দ্বারা বাধানো হয়েছে। এতে সেবা প্রত্যাশীরা একটু অপেক্ষা করেতাদের সেবা নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছেন। বিরক্তির লেশমাত্র তারা অনুভব করছেন না। কারণ এখানে আর একটি গুরুত্বপূর্ণকাজ করিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিনি বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আগত দের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটনির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। উপজেলার সবগুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন তিনি যাতেকরে আগতজনগণ কেমন সেবা পাচ্ছেন তা মনিটরিং করা যায়।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গৌরীগ্রামের ৫২ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা ভূমি অফিসের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।সহকারী কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সেটা করে দেখিয়েছন এবং প্রতারকদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। ইকরজানায়প্রায় বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আগামী বছর থেকে ইজারা দেওয়া হবে। কাজগুলো তিনি করেছেন। এছাড়াওসাঁথিয়া পৌরসভায় দুটি পুকুর উদ্ধার করে একটি নিজ দেওয়ার কাজ চলছে। আরেকটি এরই মধ্যে খাস করা হয়েছে। এটি অনেকসাহসিকতার সাথে করা হয়েছে বলে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকর্মচারিরা জানান।

এদিকে উপজেলা ভূমি অফি নামজারি ২৫ দিনের মধ্য সম্পন করছেন এক্ষত্রে জেলার মধ্য গত বছর ধরে সাঁথিয়া উপজেলাভূমি অফিস কম সময়ে নামজারিকরণে শীর্ষ হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় গত দু সপ্তাহ প্রায় লাখ ৬০ হাজারটাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সেবা প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো মনিরুজ্জামান আসার পর থেকে জনগণ সহজে সেবা এবংভূমি সংক্রান্ত সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন। ভূমি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো সহকারী কমিশনার কে বলা মাত্রই তিনি সহজ সমাধানকরে দিচ্ছেন সঠিক পরামর্শ প্রদান করছেন। যাতে কোন দালাল কিংবা কাউকে কোন টাকা না দিতে হয় এবং জনগণকেসরাসরি তার অফিসে এসে ভূমি সেবা নিতে বলছেন তিনি। বামনডাঙ্গা গ্রামের সাগর হোসেন, পদ্মবিলা গ্রামের হাফিজুররহমান,আব্দুল গফুর জানান, তারা কোন টাকা পয়সা হয়রানি ছাড়া ভূমি অফিস থেকে সেবা পেয়েছেন। এতে তারা খুব খুশিবলে জানান।

সাঁথিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেনমাত্র। তিনি জানান, আমি চাই সততার সাথে কাজ করতে এবং সর্বোচ্চ সেবা নিয়ে জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতে। আবারজমিজমা নিয়ে জালিয়াতি বা কেউ যাতে প্রতারণা করতে না পারে সেটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। তিনি জানান, সব কাজেউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদ হোসেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সবারসার্বিক সহযাগিতা পেয়েছি।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর