Sunday, মে ১৯, ২০২৪
শিরোনাম

মহাসড়কের দুপাশের গাছ চালক-যাত্রীদের আতঙ্ক

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খাঁনঃ পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলার পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের কাশিনাথপুর থেকে বেড়া সিএন্ডবি পর্যন্ত সড়কের দুইপাশের গাছ এখন চালক ও যাত্রীদের আতঙ্কের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। হালকা বাতাসেই সড়কের উপর আছড়ে পড়ছে মরা ও হেলে থাকা গাছ। শুধু গাছই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটিও। এ অবস্থায় ওই সড়কে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষদের। গাড়িচালক ও স্থানীয়দের দাবি দ্রুত ঝুকিপুর্ণ গাছগুলো কর্তন করা হোক।
বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বন বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থ বন অধিদপ্তর থেকে সড়কের দুই পাশে ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক গাছ রোপন করা হয়। এসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থান ভিক্তিক স্থানীয়দের ৪০ জন করে কমিটি করা হয়। বন বিভাগের দিক নির্দেশনায় কমিটির সভাপতি সাধারন সম্পাদক গাছগুলো দেখভাল করেন।
সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সড়ক-সংলগ্ন বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল (সেচ খাল) লিজের নামে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মাছ চাষ করায় বেড়া উপজেলার সানিলা থেকে চাকলা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার মহাসড়ক ও গাছের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্যানেলে কার্প জাতীয় মাছ চাষ করায় মাছ মাটি খেয়ে সড়কের নিচের দিকে গর্ত করে ফেলেছে। এতে গাছের নিচের মাটি না থাকায় ঝড়ে অসংখ্য গাছ পড়ে গেছে। এই তিন কিলোমিটারের মধ্যে গাছের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় গাছগুলো হালকা বাতাসে উপড়ে পরে। গত বছর সোনদহ নামক স্থানে সড়কের উপর গাছ পড়ে থাকায় ট্রাক ও ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কোচ মুখোমুখি সংর্ঘষে চারজন নিহত হয়। এছাড়াও ছোট বড় আরও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, যদি কোন রাতে ঝড় হয় তাহলে রাস্তার উপর গাছ পড়ে ঐ রাতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানযটের সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ পুলিশ সদস্যরা রাস্তা পরিস্কার করে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেন। রাস্তার পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শত শত গাছ আমাদের জন্য আতঙ্কের। অনেক সময় মরা গাছের ডালপালা পড়ে দ্রুতগামি বাসের সামনের কাঁচ ভেঙ্গে যাত্রীরাও আহত হয়। হয় বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন যাতায়াত করেন। মরা ও হেলে পরা গাছের কারণে কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না। তাই গাছগুলো কাটা ও ক্যানেলে মাছ চাষ করা বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যক্তি জানান, আমাদের জানা মতে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্যানেলটি কোন ইজারা দেয় নি। কোন ক্ষমতার বলে কতিপয় প্রভাশালী ব্যক্তি দির্ঘদিন ধরে ইজারার কথা বলে অবৈধভাবে মাছ চাষ করে আসছে। এতে সড়ক ও ক্যানেলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কয়েক বছর আগে যখন ক্যানেলটি উন্মক্ত ছিল তখন অনেক অসহায় জেলে এখান থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। আমরা ক্যানেলটি উন্মুক্ত করে দেবার দাবি জানাই।
ডিষ্ট্রিক ট্রাক চালক রায়হান আলী জানান, আমি মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা থেকে ট্রাক লোড দিয়ে ঢাকায় যাবার পথে করিয়াল নামক স্থানে পৌছাতেই হালকা বাতাস শুরু হয়। হঠাৎ করেই ট্রাকের সামনের দিকে একটা ইউক্যালেক্টর গাছ পড়ে গ্লাসটা ভেঙ্গে যায়। একটুর জন্য বড় ধরনের দূর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছি। মহাজনের কাছে কি জবাব দিবনে সেই চিন্তা আছি। তিনি আরও জানান এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুব বিপদজনক হয়ে গেছে। আমাদের দাবি ঝুকিপুর্ণ গাছ গুলো কেটে নতুন করে চারা গাছ লাগানো হোক।
সিএনজি চালক মিজান বলেন, আমি বেড়া থেকে কাশিনাথপুর পর্যন্ত সিএনজি চালাই। কিন্ত একটু বাতাস হলেই ফাঁকা জায়গায় দাড়িয়ে থাকি। কারন একটু বাতাস হলেই মরা গাছ গাছের ডালপালা গাড়ির উপর পড়ার ভয়ে। অনেক সিএনজি উপর ডালপালা পড়ে কাচ ভেঙ্গেছে যাত্রীদেরও ক্ষতি হয়েছে। এই রাস্তায় গাড়ি চালাতেই ভয় করে।
বেড়া পানি উন্নয় বোর্ড (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোন সেচখাল লিজ দেওয়া হয়নি। তারা কিভাবে মাছ চাষ করে আসছে তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পাবনা কর্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ জানান, আমাদের সওজের জায়গায় থাকা ঝুকিপুর্ণ গাছ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু জায়গায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাছ চাষে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বেড়া উপজেলার সনদহ থেকে মহিষাখোলা পর্যন্ত বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা চাকলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, বেড়া থেকে কাশিনাথপুর যাওয়ার হাতের বামে বেড়া ও ডানে সাঁথিয়া উপজেলার বাগান। ঝড়ে অনেক সময় মরা ও হেলে পড়া গাছ পড়ে যায়। আমাদের আওতার মধ্যে হলে আমরা দ্রুত সড়িয়ে ফেলি। উপজেলা বনকর্মকর্তাকে ঝুকিপুর্ণ গাছের কথা জানিয়েছি আশা করি তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
সাঁথিয়া উপজেলার বন কর্মকর্তা শফিউজ্জামান জানান, আমি এ উপজেলায় তিনদিন হল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যোগদান করেছি। গাছ পড়ে যাওয়া বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
বেড়া উপজেলা বনকর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, মুলত বাগানগুলো কমিটির সদস্যরা দেখভাল করেন। মহাসড়কের ঝুকিপুর্ণ গাছ সম্পর্কে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় আলোচনা করে রেজুলেশন করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুতই বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর