Sunday, মে ১৯, ২০২৪
শিরোনাম

বিতর্কিত সেই কাশিনাথপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে ইউএনও’র তদন্ত কমিটি গঠন

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

আরিফ খান : উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য ছুটি নিয়ে ৫ বছর আমেরিকায় অবস্থান। বসে বসে বেতন উত্তোলন করেন। পুনরায় কলেজে স্বপদে ফিরে গিয়ে শিক্ষা সনদ দেখাতে পারেননি। যোগদানের ৭ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে, কিন্তু অধ্যক্ষ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। মূলত উচ্চ শিক্ষার্থে নয়, ডিবি লটারীতে দীর্ঘ ৫ বছর ২৭ দিন আমেরিকায় অবস্থান করেন অধ্যক্ষ রোকসানা খানম। এ ঘটনায় দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গভর্নিং বডির সাবেক এক সভাপতি। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে।
এ বিষয়ে পাবনা নিউজ ডট নেট সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. সবুর আলী তিন সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি আরও জানান দ্রুতই অধ্যক্ষ রোকসানা খানম এর আমেরিকায় অবস্থানের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই কলেজের অধ্যক্ষ রোকসানা খানম ২০১১ সালে মিথ্যাচার করে ডিজির অনুমতি ছাড়াই কলেজ গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতি আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্ববেতনে ২ বৎসরের জন্য ছুটি নিয়ে আমেরিকায় যান। গত ০৯/০৫/২০১১ তারিখ থেকে ০৮/০৫/২০১৩ পর্যন্ত আমেরিকা অবস্থান শেষে বাংলাদেশে এসে পুনরায় কলেজে যোগদান করার জন্য গেলে তখনকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম শাহাবুদ্দিন টুটুল উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন। তখন তাকে কলেজ গভর্নিং বডি যোগদান করতে না দিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কলেজের যোগদান করতে না পেরে রোকসানা খানম পুনরায় আমেরিকায় চলে যান। ঘটনাটি প্রশাসন মহলে জানাজানি হলে গত ২৯/১০/২০১৩ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বেড়া উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মনোয়ার হোসেনকে তদন্ত কমিটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৪/১১/২০১৩ তারিখে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ.এইচ.এম.এ ছালেককে তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ২১/১০/২০১৪ তারিখে সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবিএম মিশামুল হাবীব (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি) ও পর্যায়ক্রমে কমিটি পরিবর্তন করে ডিজির প্রতিনিধি সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদকে পুনরায় তদন্ত কমিটির মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ৭-৮ বছর অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে তদন্ত কমিটির কেউই কোন রিপোর্ট অদ্যাবধি পেশ করেন নাই।
এদিকে দ্বিতীয়বার আমেরিকা থেকে ফিরে অধ্যক্ষ রোকসানা খানম তার উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সনদপত্র গভর্নিং বডির কাছে শিগগিরই জমাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ০৫/১১/২০১৭ তারিখে কলেজে যোগদান করেন। কিন্তু সনদপত্র জমা দেব, দিচ্ছি বলে বলে এবং নানারকম অজুহাত দেখিয়ে তিনি কালক্ষেপন করতে থাকেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ম্যানেজ করে তাকে দিয়ে গভর্নিং বডির সভাপতিকে চাপ প্রয়োগ করে স্বপদে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
কলেজের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিযোগে জানান, উচ্চ শিক্ষার্থে নয়, ডিবি লটারীতে দীর্ঘ ৫ বছর ২৭ দিন আমেরিকায় অবস্থান করেন অধ্যক্ষ রোকসানা খানম। এসময় তিনি অনৈতিকভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতনভাতা উত্তোলন করেছেন। যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৪ সালে উচ্চশিক্ষা লাভের ছুটি বিধি ( ক ) ( খ ) ও ( গ ) ও শিক্ষামন্ত্রণালয় ২০১০ সালের ছুটিবিধি ( ক ) ( খ ) ও ( গ ) লঙ্ঘন করেছেন। তথ্য গোপন করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন- মর্মে দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছেন কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি এস এম শাহাবুদ্দিন টুটুল।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর