Monday, মে ২০, ২০২৪
শিরোনাম

হোমিওপ্যাথিতে করোনা রোগীর চিকিৎসা সম্ভব- দাবী পাবনার এক হোমিও চিকিৎসকের

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে দাবি করেছেন পাবনার এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ডা. আমিরুল ইসলাম সানু নামের এই চিকিৎসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, মিরপুর-১৪ থেকে হোমিওপ্যাথিতে স্নাতকধারী (বিএইচএমএস)। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলা হুঁইখালী গ্রামে। বর্তমানে তিনি কাশিনাথপুরে বসবাস করেন। এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু-অধ্যাপক লুৎফুন্নেছা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার মতে, এর আগে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ যেভাবে সম্ভব হয়েছে, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণও হোমিওপ্যাথিতে সম্ভব।
তিনি বলেন, Not the diseases treat the patient অর্থাৎ “রোগ নয় রোগীর চিকিৎসা ” রোগ যে নামেই হোক না কেন রোগীর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ লক্ষণ সমষ্টিই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল বিষয়। করোনা ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র এবং অল্প শক্তিসম্পন্ন একটি ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনীশক্তির প্রভাবে জীবানুটি পরাজিত হয়, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি এমনিতেই ভালো হয়ে যায় কোন প্রকার ওষুধের ব্যবহার ছাড়াই। মোট কথা- যার ইমিউনিটি বা জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা একেবারেই কম, যেমন শিশুদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার হার একেবারেই কম, কারণ শিশুদের জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। আর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কখনই সরাসরি কোন জীবানুর বিরুদ্ধে কাজ করে না, সিলেকটিভ হেমিওপ্যাথিক ড্রাগ নির্দিষ্ট রোগীর জীবনীশক্তি বা ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ওই রোগীকে সুস্থ করে তোলে- সে যে নামের রোগই হোক না কেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহামারিতে হোমিও ওষুধ এভাবেই সফলতা পেয়েছে, তা আজকের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ মানুক আর নাই মানুক। এই সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ চারটি ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এই চারটি লক্ষণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সাথে শতভাগ মিলে, ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শতভাগ আরোগ্য সম্ভব এবং এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত। এ ব্যাপারে সরকারের সাথে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করছি। পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাজের সফলতা যাচাই করার আহবান জানাচ্ছি।

এদিকে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’। আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। (খবর হিন্দুস্তান টাইমস।) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনা মোকাবেলায় উপযুক্ত ওষুধ তাদের হাতে রয়েছে। ভ্যাকসিন বা অ্যালোপ্যাথি ওষুধ নয়, হোমিওপ্যাথিতেই করোনা প্রতিরোধ করা যাবে। ভারতের আয়ুস মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। করোনা আক্রান্তের উপসর্গ সারানোর জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশিকায় বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে হোমিওপ্যাথি কতটা ‘বিজ্ঞানসম্মত’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। করোনার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভাইরাস মোকাবেলায় আদৌ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্রযোজ্য কিনা- তা এখনও প্রমাণ হয়নি। গবেষণা না করেই সরকারের তরফে এমন নির্দেশিকায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। (সূত্র: জিনিউজ।)
ভারতের নওদার প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বাঙ্গপুরে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. নীলাঞ্জন রায় করোনার রোগিদের হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন ‘‘লক ডাউনের জেরে বন্ধ রয়েছে গাড়িঘোড়া। হোমিও ডাক্তার হলেও চিকিৎসা পরিষেবা তো মিলছে।’’ কিন্তু এই করোনা আবহেও একজন হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চলে? এ রকম প্রশ্নে নওদার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মুকেশ কুমার সিংহ বলেন, ‘‘জেলায় এমবিবিএস ডাক্তারের বড় অভাব। তাই হোমিও চিকিৎসক দিয়েই গ্রামীণ হাসপাতাল চলছে।’’(সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা)

করোনায় হোমিওপ্যাথির সাফল্য :
ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস করনোমুক্ত হয়ে কিভাবে এতো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলেন? এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, বেঙ্গালুরুর এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই সেরে উঠেছেন রানী এলিজাবেথ পুত্র। প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক জানান, হোমিওপ্যাথির জোরেই সুস্থ হয়েছেন প্রিন্স চার্লস। আর তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বেঙ্গালুরুর বিশেষজ্ঞের। মন্ত্রী বলেন, “বেঙ্গালুরুতে ‘সৌক্য’ নামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালান ডা.মাথাই। তিনিই ফোনে আমাকে জানান, প্রিন্স চার্লসের শরীর থেকে করোনার জীবাণু দূর করতে হোমিওপ্যাথিকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। তার চিকিৎসা সফল হয়েছে। প্রিন্স এখন সম্পূর্ণ করোনামুক্ত।”
দীর্ঘদিন ধরেই হোমিওপ্যাথি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন ডা. মাথাই। সেই ওষুধেই কাজ দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তার সাফল্য নতুন দিশা দেখাচ্ছে ভারতকে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এই ওষুধ এবং থেরাপি কাজে লাগিয়ে উপকৃত হওয়া যায় কি-না, এরই মধ্যেই তার পরীক্ষা শুরু হয়েছে ভারতে। কেন্দ্রের নিযুক্ত স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কে যখন কাঁপছে মানুষ, তখন বেঙ্গালুরু চিকিৎসকের এমন কীর্তি করোনার লড়াইয়ে হতে পারে মূল হাতিয়ার। (সূত্র- মেট্রো সাগা।)

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে করোনা প্রতিরোধে হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, হোমিওপ্যাথিতে গ্রামগঞ্জে কিছু হাতুরে ডাক্তারকে দেখা যায়। লেখাপড়া না জানা ওই সমস্ত হাতুরে ডাক্তারদের কারণে অনেকেই হোমিওপ্যাথির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আপনারা আপনার সমস্যা নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে যারা লেখাপড়া করেছেন, এরকম চিকিৎসকের কাছে যাবেন। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এখন একাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন। এমননি দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এখন সরকারিভাবে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপনারা কোন হাতুরে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অবশ্যই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞদের কাছে যাবেন, আশা করি ভালো চিকিৎসা পাবেন। হোমিওপ্যাথির প্রতি আপনার আস্থাও আসবে।

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর