Sunday, মে ১৯, ২০২৪
শিরোনাম

“পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের পক্ষে একজোট নারীরা”

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

বেড়া প্রতিনিধি : মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার (১৯ মার্চ) বেড়া পৌর এলাকার পায়না মহল্লার শতাধিক নারী স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর বাড়িতে সমেবত হন। একই সঙ্গে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের মদদে একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের কাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারেও তাঁরা দাবি জানান।
সমবেত হওয়া নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংসদ শামসুল হক টুকুর ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম নাফিস শামস পায়না মহল্লায় নিজ জমিতে ‘সৌদিয়া এগ্রো সোলার পিভি পাওয়ার প্ল্যান্ট’ স্থাপনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আরও কয়েক শ মানুষের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্পটি ঘিরে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা দেয়।
কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শুরু থেকেই ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। মহলটি এই বলে অপপ্রচার শুরু করেছে যে প্রকল্পটি অন্যের জমি দখল করে করা হচ্ছে। সমেবত হওয়া নারীরা ও প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিতরা জানান, এ অভিযোগটি একবারেই মিথ্যা। স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে শত শত মানুষ সেখানে কর্মসংসংস্থানের যে স্বপ্ন দেখছিল তা শেষ হয়ে যাবে।
সমবেত নারী ও প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পায়না থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলে আসছিল। একই সঙ্গে এই চক্রটি অবৈধ বালুর ব্যবসাও করে আসছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এই চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে মাদক ও বালু ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। আর মূলত এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চক্রটি অপপ্রচার চালিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পটিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
গতকাল (শুক্রবার, ১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পায়না মহল্লা থেকে শতাধিক নারী সাংসদ শামসুল হক টুকুর বাড়ির সম্মেলন কক্ষে গিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা সাংসদকে পেয়ে যে কোনো মূল্যে প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখার দাবি জানান। এর পাশাপাশি মাদকব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে ব্যাপারেও দাবি জানান।
পরে সেখানে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিল্লুর রহমান, পায়না মহল্লার বাসিন্দা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম পটল উপস্থিত হন। এ সময় সাংসদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমেবত নারীদেরকে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ^স্ত করেন।
সমেবত নারীরা জানান, পায়না মহল্লার অবৈধ বালু ব্যবসায়ী মো. কিরণের নেতৃত্বে একটি চক্র ওই এলাকায় মাদকব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি কিরণসহ ওই চক্রের কয়েকজন পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল-হাজতে রয়েছেন।
ওই স্থানে উপস্থিত হওয়া মরিয়ম খাতুন (৪০), ময়না খাতুন (৪০), চেনবানু (৩৫), রীনা খাতুনসহ (৪০) ১৫ থেকে ২০ জন নারী এ প্রতিনিধিকে জানান, ওই এলাকায় মাদকের কারবার চলতে থাকায় তাঁদের বাড়ির ছেলেরা কুপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্টে কাজ পেলে ছেলেদের ভাগ্য ঘুরে যাবে। কিন্তু ওই প্রজেক্টটি বন্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তাই তাঁরা মাদকব্যবসার সঙ্গে যুক্ত চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম পটল বলেন, ‘মুষ্টিমেয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কাছে গ্রামের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। তাদের অপতৎপরতার কারণে প্রজেক্ট বন্ধ হলে অসংখ্য মানুষের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও মাদকব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রুখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পাশে পুলিশ সব সময় রয়েছে।’
পাবনা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, ‘এলাকায় সন্ত্রাসী ও মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমার কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আর ওই চক্রটি যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তার জবাব দিতে আমি সব সময় প্রস্তুত। কেউ যদি এসে আমার কাছে উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে বলে যে আমার ছেলে কারো জমি দখল করে প্রজেক্ট করছে তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তার জমি ফেরতের উদ্যোগ নেব।’

শেয়ার করতে এখানে চাপ দিন

সর্বশেষ খবর